সম্প্রতি Sony Music India তাঁদের ইউটিউব চ্যানেলে Rap সঙ্গীত তারকা Badshah ও Payel Dev এর গাওয়া একটি গান পাবলিশ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন, " গেঁদা ফুল " (Genda Phool)। মুক্তির প্রথম দিনেই এক কোটি মানুষ এই গান শুনে ফেলেছেন। ফলত, এখন গানটি ভারতে ইউটিউবে ১ নম্বরে ট্রেন্ডিং চলছে। অনেকে পছন্দও করছেন, অনেকে মনে করছেন এটা বাংলা গানের অপমান। কিন্তু, আমরা অপরাধ মনে করছি। অপরাধ মানুষের প্রাপ্য সম্মান ও অর্থ থেকে মানুষকে বঞ্চিত করার। ১৯৭৬ সালে যে গান গেয়ে প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন, এবং বাঙালীর পছন্দের গানের তালিকায় স্থান পেয়েছিল যে গান। সে গানের স্রষ্ঠা, আজ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। হারমোনিয়াম কেনার মত অর্থও তাঁর কাছে নেই। তবুও, দাঁতে দাঁত চেপে সয়ে গেছেন সমস্ত অপমান, সমস্ত বঞ্চনা। তবুও, গান ছাড়েন নি। হ্যাঁ! শিল্পীরা এমনই হন। ৭৬ সালের আগেও মানুষ বীরভূমের রতন কাহরের কাছে শুনেছেন "বড়োলোকের বিটি লো, লম্বা লম্বা চুল....”। ১৯৭২ সালে লেখা তাঁর এই গান গেয়ে, বহু মানুষের নিজের এবং তাঁদের আগামী প্রজন্মের সারা জীবনের ভাতের ব্যবস্থা হয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু, রতন কাহার এবং তাঁর পরিবারের দুরাবস্থা আমাদের লজ্জায় ফেলছে বার বার। পুঁজিবাদের কাছে দরিদ্রের অধিকার ও প্রাপ্যের লড়াই বহুবার হার মেনেছে, আজও সেই চিত্র দেখতে হচ্ছে আমাদের। মাটির মানুষ রতন কাহার বহু ছোটো বড় জায়গায় সম্মান এবং সম্বর্ধনা পেয়েছেন বার বার। কি লাভ তাতে? সম্বর্ধনা এর বদলে সামান্য কটা অর্থ জুটলে বরং পরিবারের মানুষ কটা অন্তত একটু খেয়ে পরে ভালো ভাবে বাঁচতে পারতো।
অথচ, এমন হওয়ার কথা ছিল না। ঐশ্বর্য, সম্মান ও বিপুল অর্থের ওপাশে থাকার কথা ছিল আমাদের শিল্পী রতন কাহারের। তাঁর লেখা আরও গান গুলো পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল বাংলা ও বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তরে। Rap সঙ্গীত তারকা Badshah এর নয়, সঙ্গীত শিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তীরও নয়; রতন কহারের ”বড়োলোকের বিটি লো, লম্বা লম্বা চুল ” বলে পরিচিত হাওয়ার কথা ছিল এই গান। কিন্তু, এই নিয়ে তাঁর কোনো দুঃখ নেই। হ্যাঁ! শিল্পীরা এমনই হয়।
পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষা লাভের লোভে হারিয়ে যাওয়া বীরভূম ও বাংলার এক মাটির শিল্পী রতন কাহারের সাথে আপনাদের পরিচয় করানোর উদ্দ্যেশে এই কাজটি শুরু করা হয়েছিল। দেখুন, শুনুন তাঁর কথা, তাঁর মুখেই।